তীর্থস্থানমন্দির

৫১ শক্তিপীঠের বর্তমান অবস্থান এবং কোথায় সতীর কোন অঙ্গ পড়েছিল জেনে নিন

শক্তিপীঠ সনাতন হিন্দু ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনবিশ্বাস মতে, এই তীর্থগুলিতে দেবী দাক্ষায়ণী সতীর দেহের নানান অঙ্গ প্রস্থখন্ডরূপে রক্ষিত আছে। সাধারণত ৫১ শক্তিপীঠের কথা বলা হলেও, শাস্ত্রভেদে শক্তিপীঠের সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে। শক্তিপীঠকে সতীপীঠ নামেও অভিহিত করা হয়।

পীঠনির্ণয় তন্ত্র গ্রন্থ অনুসারে শক্তিপীঠের সংখ্যা ৫১। তবে শিবচরিত গ্রন্থে ৫১ শক্তিপীঠের পাশাপাশি ২৬টি উপপীঠের কথাও বলা হয়েছে। কুব্জিকাগন্থে পীঠের সংখ্যা বলা হয়েছে ৪২। জ্ঞানার্ণবতন্ত্র গ্রন্থে আবার বলা হয়েছে পীঠ সংখ্যা ৫০টি।

কিংবদন্তী অনুসারে, দক্ষ রাজা বৃহস্পতির অমতে তাঁর মেয়ে সতী দেবী ভগবান শিবকে বিয়ে করেছিলেন। এ কারণে দক্ষ রাজা মহাদেব শিবের প্রতি ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাই তিনি মহাদেবের উপর প্রতিশোধ নেবার জন্য এক যজ্ঞের আয়োজন করলেন। এই যজ্ঞে শিব ও সতী দেবী ছাড়া অন্য সকল দেব-দেবীকে দক্ষ নিমন্ত্রণ করেছিলেন। শিবের ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও, সতী দেবী মহাদেবের অনুসারীদের নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

নিমন্ত্রণ ছাড়া যজ্ঞে উপস্থিত হওয়ায় সতীকে যথাযথ সম্মান দেয়া হয়নি। উপরন্তু দক্ষ রাজা মহাদেব শিবকে অপমান করেন। স্বামীর প্রতি পিতার এ অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী দেবী যোগবলে আত্মাহুতি দেন।

সতী দেবীকে কাঁধে নিয়ে মহাদেব শিবের প্রলয়নৃত্য

এই সংবাদ মহাদেবের কানে পৌছালে তিনি শোকে কাতর ও ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে উঠেন। তিনি যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হয়ে দক্ষ রাজের যজ্ঞ পন্ড করে দেন। এরপর সতী দেবীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। শিবের প্রলয় নৃত্যে মহাকাশ-অন্তরীক্ষ-পৃথিবী কেঁপে উঠলো। সৃষ্টি রক্ষার তাগিদে তখন অন্য দেবতারা বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। অতঃপর ভগবান বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীদেবীর মৃতদেহ ছেদন করেন। তখন সতীদেবীর খন্ড-বিখন্ড দেহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে পড়ে এবং পরবর্তীতে সেই স্থানগুলো শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি পায়।

প্রচলিত বিশ্বাস মতে বেশীর ভাগ হিন্দু ৫১ শক্তিপীঠ বলেই বিশ্বাস করেন। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় এই ৫১টি শক্তিপীঠ অবস্থিত। চলুন তবে এবার জেনে নেওয়া যাক এই ৫১ শক্তি পীঠ কোথায় এবং কোন স্থানে সতীদেবীর দেহের কোন অংশ পড়েছিল-

বৈদ্যনাথধাম বা বৈদ্যনাথ মন্দির, দেওঘর, ঝাড়খণ্ড, ভারত
বৈদ্যনাথধাম বা বৈদ্যনাথ মন্দির, দেওঘর, ঝাড়খণ্ড, ভারত

১। বৈদ্যনাথধাম বা বৈদ্যনাথ মন্দির, দেওঘর, ঝাড়খণ্ড, ভারত

এই শক্তিপীঠটি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘরে অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর হৃদপিন্ড পতিত হয়েছিল। এই পীঠের দেবীর নাম জয়দুর্গা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম বৈদ্যনাথ।

নাইনাতিভু শক্তিপীঠ, জাফনা, শ্রীলঙ্কা
নাইনাতিভু শক্তিপীঠ, জাফনা, শ্রীলঙ্কা

২। নাইনাতিভু শক্তিপীঠ, জাফনা, শ্রীলঙ্কা

এই শক্তি পীঠ শ্রীলঙ্কার জাফনা দ্বীপে অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর নূপুর পতিত হয়েছিল। এ পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ইন্দ্রাক্ষী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম রাক্ষসেশ্বর।

৩। করবীর বা শর্করা শক্তিপীঠ, করাচী, পাকিস্তান

পাকিস্তানের করাচীতে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর চক্ষু পতিত হয়েছিল। এই পীঠের আরাধ্যা দেবীর নাম মহিষমর্দিনী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ক্রোধীশ।

৪। সুগন্ধা শক্তিপীঠ, বরিশাল, বাংলাদেশ

সুগন্ধা শক্তিপীঠ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার শিকারপুর গ্রামে অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর নাসিকা পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম সুগন্ধা এবং পীঠরক্ষক ভৈরব ত্র্যম্বক

৫। অমরনাথ শক্তিপীঠ, কাশ্মীর, ভারত

অমরনাথ ধাম ভারতের কাশ্মীরে অবস্থিত। এই স্থানে দেবী সতীর কন্ঠ পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম মহামায়া এবং পীঠরক্ষক ভৈরব ত্রিসন্ধ্যেশ্বর।

৬। জ্বালামুখী শক্তিপীঠ, হিমাচল প্রদেশ, ভারত

ভারতের হিমাচল প্রদেশের কাংরা উপত্যকায় জ্বালামুখী শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবী সতীর জিহ্বা পতিত হয়েছে। এই পীঠের দেবী সিদ্ধিদা বা অম্বিকা নামে পরিচিত। জ্বালামুখী শক্তিপীঠের রক্ষক উন্মত্ত ভৈরব।

৭। জলন্ধর শক্তিপীঠ, পাঞ্জাব, ভারত

জলন্ধর শক্তিপীঠ ভারতের পাঞ্জাবে অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর বাম স্তন পতিত হয়েছিল। এই পীঠের দেবীর নাম ত্রিপুরমালিনী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ভীষণ।

৮। গুহ্যেশ্বরী মন্দির, নেপাল

নেপালের কাঠমান্ডুর অদূরে পশুপতিনাথ মন্দিরের নিকটেই গুহ্যেশ্বরী মন্দির অবস্থিত। এই স্থানে সতী দেবীর জানুদ্বয় পতিত হয়েছিল। এই পীঠের আরাধ্যা দেবীর নাম মহাশিরা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম কাপালী।

৯। মানস, তিব্বত

তিব্বতের মানস সরোবরে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবী সতীর ডান হস্ত পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম দাক্ষায়ণী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম অমর।

১০। সর্বমঙ্গলা মন্দির, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এই মন্দির অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর নাভিত পতিত হয়েছিল। এই পীঠের দেবীর নাম মাতা সর্বমঙ্গলা দেবী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম শিব বা মহাদেব।

১১। গন্ধকী শক্তিপীঠ, মুক্তিনাথ মন্দির, পোখরা, নেপাল

নেপালের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পোখরাতে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর মস্তিষ্ক পতিত হয়েছে। এই শক্তিপীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবী চণ্ডী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম চক্রপাণি।

১২। বেহুলা শক্তিপীঠ, কেতুগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে বেহুলা শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর বাম হাত পতিত হয়েছে। এই পীঠের দেবীর নাম বেহুলা দেবী এবং পীঠ রক্ষক ভৈরবের নাম ভীরুক।

১৩। মঙ্গলচণ্ডী মন্দির, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার উজ্জনিতে এই পীঠস্থান অবস্থিত। এই স্থানে সতী দেবীর ডান কব্জি পতিত হয়েছে। এই পীঠের দেবীর নাম মঙ্গলচণ্ডীকা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম কপিলাম্বর।

১৪। ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, উদয়পুর, ত্রিপুরা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উদয়পুরে রাশাকিশোর গ্রামের নিকট পাহাড়চূড়ায় ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর ডান পা পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ত্রিপুরাসুন্দরী ও পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ত্রিপুরেশ।

১৫। চন্দ্রনাথ মন্দির, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

চন্দ্রনাথ মন্দির বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর ডান হাত পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ভবানী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম চন্দ্রশেখর।

১৬। ভ্রামরী দেবী মন্দির, জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জল্পাইগুড়ি জেলায় জল্পেশ মন্দিরের নিকটে ভ্রামরী দেবী মন্দির অবস্থিত। এখানে দেবীর বাম পা পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ভ্রামরী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম অম্বর।

১৭। কামাক্ষ্যা, গৌহাটি, আসাম

ভারতের আসাম প্রদেশের রাজধানী গৌহাটির নিকটে নীলাচল পর্বতে কামাক্ষ্যা মন্দির অবস্থিত। এই স্থানে সতী দেবীর যোনি পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম কামাক্ষ্যা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম উমানন্দ।

১৮। যোগাদ্যা শক্তিপীঠ, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার ক্ষীরগ্রামে যোগাদ্যা শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে সতী দেবীর ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম যোগাদ্যা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ক্ষীরখণ্ডক।

১৯। কালীপীঠ, কালীঘাট, কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় কালী ঘাট মন্দির অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর ডান পায়ের আঙ্গুল পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম কালিকা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম নকুলেশ্বর।

২০। প্রয়াগ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত

ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের প্রয়াগ সঙ্গমের নিকট এই সতীপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর হাতের আঙ্গুল পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ললিতা বা মাধবেশ্বরী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ভব।

২১। জয়ন্তীয়া শক্তিপীঠ, সিলেট, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বের প্রাচীন জনপদ শ্রীহট্ট তথা সিলেট জেলার কানাইঘাটে জয়ন্তীয়া শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর বাম জঙ্ঘা পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম জয়ন্তী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ক্রমদীশ্বর।

২২। কিরীটেশ্বরী মন্দির, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কিরীটকোন গ্রামের এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর মুকুট পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম বিমলা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম সংবর্ত।

২৩। বারাণসী, উত্তরপ্রদেশ, ভারত

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের গঙ্গাতীরে মনিকর্ণিকা ঘাটে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর কানের দুল পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম বিশালাক্ষী ও মণিকর্ণী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম কালভৈরব।

২৪। কন্যাকুমারী, তামিলনাড়ু, ভারত

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সর্বদক্ষিণে ভারতের শেষ বিন্দুতে কন্যাকুমারী মন্দির অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর পিঠ পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম সর্বাণী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম নিমিষ।

২৫। বর্তমান কুরুক্ষেত্র, হরিয়ানা, ভারত

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের বর্তমান কুরুক্ষেত্রে এই সতী পীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর গোড়ালির হাড় পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম সাবিত্রী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম স্থাণু।

২৬। মণিবন্ধ, রাজস্থান, ভারত

ভারতের রাজস্থানের পুষ্করের নিকট গায়ত্রী পর্বতে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর দুই হাতে বালা পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম গায়ত্রী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম সর্বানন্দ।

২৭। শ্রীশৈল বা মহালক্ষ্মী গ্রীবা পীঠ, সিলেট, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর গলা বা গ্রীবা পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম মহালক্ষ্মী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম সম্বরানন্দ।

২৮। কঙ্কালীতলা মন্দির, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরে কোপাই নদীর তীরে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর অস্থি বা হাড় পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম দেবগর্ভা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম রুরু।

২৯। কালমাধব, মধ্যপ্রদেশ, ভারত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টকে শোন নদীর তীরে, পাহাড়ের উপরে গুহার ভিতর এই সতীপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর বাম নিতম্ব পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম কালী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম অসিতাঙ্গ।

৩০। শোন্দেশ, মধ্যপ্রদেশ, ভারত

মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টকে নর্মদা নদীর উৎসের নিকট এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর ডান নিতম্ব পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম নর্মদা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ভদ্রসেন।

৩১। রামগিরি, চিত্রকূট, উত্তরপ্রদেশ, ভারত

ভারতের উত্তর প্রদেশের চিত্রকূটে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে সতীদেবীর ডান স্তন পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম শিবানী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম চন্দা।

৩২। বৃন্দাবন শক্তিপীঠ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর কেশগুচ্ছ/চূড়ামণি পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম উমা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ভূতেশ।

৩৩। শুচি, শুচিতীর্থম শিব মন্দির, তামিলনাড়ু, ভারত

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর উপরের দাঁতসমূহ পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম নারায়ণী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম সংহার।

৩৪। পঞ্চসাগর, অজ্ঞাত

পঞ্চসাগর নামের এই শক্তিপীঠের সঠিক স্থান এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে ধারণা করা হয় এই শক্তিপীঠ হরিদ্বারের নিকট কোথাও অবস্থিত। এই পীঠে দেবীর নিচের দাঁতসমূহ পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম বরাহী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম মহারুদ্র।

৩৫। ভবানীপুর শক্তিপীঠ, বগুড়া, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বগুড়া জেলার ভবানীপুরে করতোয়া নদীর তীরে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে সতীর তল্প পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম অপর্ণা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম বামন।

৩৬। শ্রীপর্বত, লাদাখ, কাশ্মীর, ভারত

ভারতের কাশ্মীরের লাদাখের নিকট, মতান্তরে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নূল জেলায় এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর ডান পায়ের নূপুর পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম শ্রীসুন্দরী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম সুন্দরানন্দ।

৩৭। বর্গভীমা মন্দির, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর বাম পায়ের নূপুর পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম কপালিনী (ভীমরূপ) এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম সর্বানন্দ।

৩৮। প্রভাস, জুনাগড়, গুজরাত, ভারত

ভারতের গুজরাত রাজ্যের জুনাগড় জেলায় এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে সতী দেবীর পাকস্থলী পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম চন্দ্রভাগা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম বক্রতুণ্ড।

৩৯। ভৈরব পর্বত, উজ্জয়িনী, মধ্যপ্রদেশ, ভারত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহর হতে একটু দূরে শিপ্রা নদীর তীরে ভৈরব পাহাড়ে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর উপরের ওষ্ঠ পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম অবন্তী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম লম্বকর্ণ।

৪০। বাণী, নাসিক, মহারাষ্ট্র, ভারত

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর চিবুক বা থুতনি পতিত হয়েছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ভ্রামরী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম বিকৃতাক্ষ।

৪১। কোটিলিঙ্গেশ্বর মন্দির, অন্ধ্রপ্রদেশ, ভারত

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের রাজামুন্দ্রীতে গোদাবরী নদীর তীরে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে সতী দেবীর গাল পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম রাখিনী বা বিশ্বেশ্বরী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম বৎসনাভ বা দণ্ডপাণি।

৪২। বিরাট, রাজস্থান, ভারত

ভারতের রাজস্থানে ভরতপুরের নিকট এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর বাম পায়ের আঙ্গুল পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম অম্বিকা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম অমৃতেশ্বর।

৪৩। রত্নাবলী শক্তিপীঠ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর ডান স্কন্ধ বা কাঁধ পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম কুমারী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম শিব।

৪৪। মিথিলা, জনকপুর, নেপাল

নেপালের জনকপুরের মিথিলায়, ভারত-নেপাল সীমান্তে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর বাম স্কন্ধ বা কাঁধ পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম উমা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম মহোদর।

৪৫। নলহাটেশ্বরী মন্দির, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর শ্বাসনালীসহ কন্ঠনালী পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম কালিকা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম যোগেশ।

৪৬। কর্ণাট, কাংরা, হিমাচল প্রদেশ, ভারত

হিমাচল প্রদেশের কাংরা উপত্যকায় এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর উভয় কর্ণ বা কান পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম জয়দুর্গা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম অভিরুক।

৪৭। বক্রেশ্বর শক্তিপীঠ, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় পাপহর নদীর তীরে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর ভ্রুযুগলের মধ্যবর্তী অংশ পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম মহিষমর্দিনী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম বক্রনাথ।

৪৮। যশোরেশ্বরী, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরে যশোরেশ্বরী মন্দির অবস্থিত। এই স্থানে দেবীর হাতের তালু ও পায়ের পাতা পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম যশোরেশ্বরী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম চণ্ড।।

৪৯। অট্টহাস শক্তিপীঠ, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দক্ষিণদিহিতে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর ওষ্ঠ বা ঠোঁট পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ফুল্লরা এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম বিশ্বেশ।

৫০। নন্দীকেশ্বরী মন্দির, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ

বীরভূমের সাঁইথিয়া শহরের মধ্যভাগে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর গলার অলঙ্কার পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম নন্দিনী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম নন্দিকেশ্বর।

৫১। হিংলাজ বা হিঙ্গুলা, পাকিস্তান

হিংলাজ পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের মাকরান মরুভূমিতে অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এখানে বিখ্যাত হিংলাজ মাতার মন্দির রয়েছে৷ এখানে দেবীর ব্রহ্মরন্ধ (মস্তিষ্কের অংশ বিশেষ) পতিত হয়েছে। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম কোট্টরী এবং পীঠরক্ষক ভৈরবের নাম ভীমলোচন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
error: Content is protected !!