পৌরানিক কাহিনী

সত্যবতী কীসের প্রলোভনে পরাশর মুনির মিলন প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন?

সমগ্র মহাভারত জুড়ে রয়েছে অসংখ্য নারী চরিত্র। মহাভারতের সেরকমই একটি শক্তিশালী নারী চরিত্র সত্যবতী । সত্যবতীর গায়ে মাছের তীব্র গন্ধ থাকায় তাঁর আরেক নাম মৎস্যগন্ধা। মাছের তীব্র গন্ধের কারণে কেউ তাঁর কাছে আসতে চাইতনা। তাই পালকপিতা দেশের নির্দেশে তিনি যমুনা নদীতে নৌকা পারাপার ও জেলেনি হিসেবে কাজ করতেন।

একদিন সত্যবতী যমুনায় নৌকা পারাপার করছিলেন। এমন সময় মহর্ষি পরাশর সেখানে উপস্থিত হলেন। পরাশর মুনি ছিলেন ঋষি শক্তি ও অদৃশ্যত্নীর পুত্র। ঋষি শক্তি ছিলেন বশিষ্ঠের ছেলে।

সত্যবতী মহাভারত
মহাভারতের সত্যবতী

আরো পড়ুনঃ নেপালের এই জায়গায় এখনো দেখা যায় ভগবান কৃষ্ণের পায়ের ছাপ!

ঋষি পরাশর সত্যবতীর নৌকায় উঠে তাঁর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেন। তিনি সত্যবতীর সঙ্গে মিলন কামনা করলেন। পরাশর মুনি বললেন, এসো আমরা মিলিত হই – পুত্র সন্তান উৎপাদন করি।

কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে উন্মুক্ত নৌকায় মিলনে অপারগতা প্রকাশ করেন সত্যবতী। তিনি বলেন, আমি চাইনা, লোকচক্ষুর সম্মুখে এভাবে আমরা সঙ্গমে লিপ্ত হই। পরাশর মুনি সত্যবতীর কথা বুঝতে নিজ ঐশী ক্ষমতাবলে এক ঘন কুয়াশা তৈরী করলেন। ফলে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। এরপর মহর্ষি পরাশর বললেন, “এবার এসো সুন্দরী। আমাদের কেউ দেখতে পাবেনা।

সত্যবতী তবু রাজী হলেন না। তিনি বললেন, হে মুনিবর, আমি কুমারী। আমার কৌমার্য আমি কোনভাবেই নষ্ট হতে দিতে পারিনা। তাছাড়া আমি কুমারীত্ব হারালে আমার পিতা ধীবর আমাকে তাড়িয়ে দেবেন। কুমারীত্ব হারিয়ে গর্ভবতী হয়ে আমি কীভাবে তাঁর মুখোমুখি হবো? আমাকে ক্ষমা করবেন মুনিবর।

পরাশর মুনি সত্যবতীকে আশ্বস্ত করে বললেন, আমার সঙ্গে মিলনে তুমি কুমারীই থাকবে। তোমাকে গর্ভধারণের কষ্ট সইতে হবেনা। তোমার গর্ভে আমার ঔরসজাত সন্তান সঙ্গে সঙ্গেই ভূমিষ্ট হবে। আর সেই পুত্র আমার কাছেই থাকবে।

আরো পড়ুনঃ জানেন কী দেবী সরস্বতী আসলে কে? দেবী সরস্বতীর জন্ম, প্রণয়, বিবাহ সবই জটিল সম্পর্কের আবর্তে ঘূর্ণায়মান!

এরপর সত্যবতী ও পরাশর মুনি সঙ্গমে লিপ্ত হন। এর ফলে সত্যবতীর গায়ের মাছের গন্ধ একেবারে চলে গেল। দেহ হয়ে উঠলো সুগন্ধময়। এক যোজন দূর থেকেও তাঁর গায়ের সুগন্ধ পাওয়া যেতো বলে তাঁর নাম হলো যোজনগন্ধা। 

পরাশর-সত্যবতীর পুত্রের নাম কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। তাঁর কোন শৈশব ছিলনা। জন্মেই তিনি কিশোরত্ব লাভ করেন। 

দেবী ভাগবত পুরাণে বলা হয়েছে, পরাশর মুনি সত্যবতীকে প্রলোভন দেখান যে, তিনি তাঁর গায়ের দুর্গন্ধ দূর করে সুগন্ধময় করে তুলবেন। এমনকি সঙ্গমেও তিনি কুমারীত্ব হারাবেন না। মূলত এই দুটি প্রলোভনেই সত্যবতী মিলনে রাজী হন।

আরো পড়ুনঃ রুদ্রপ্রয়াগের এই মন্দিরেই বিয়ে হয়েছিল শিব-পার্বতীর! আপনি জানেন তো?

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
error: Content is protected !!